নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সবচেয়ে বেশি দরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রেরনা ডেস্কঃ বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নারীদের শুধু শিক্ষা দিলেই হবে না, তাই আমরা সরকারে এসে বিভিন্ন পদে নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। প্রথমেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬০ শতাংশ নারীদের চাকরির সুযোগ করে দেই। কারণ নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সবচেয়ে বেশি দরকার। সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত বেগম রোকেয়া দিবসের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন সেক্টরে মেয়েদের অগ্রগতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা চাই মেয়েরা বিনিয়োগ সেক্টরে এগিয়ে আসুক। এখন বাংলাদেশের সব জায়গায় মেয়ের অবস্থান রয়েছে। পার্লামেন্টে সব জায়গায় মেয়েদের অবস্থান। ক্রীড়াঙ্গনে…

আর নয় ঝরে পড়া, শিখব মোরা লেখা পড়া

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম: শিক্ষাকে প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি অমূল্য সম্পদ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। এই শিক্ষাই আমাদের ভবিষ্যতের সমুহ সম্ভাবনাকে অনিশ্চয়তার কালোথাবা থেকে রক্ষা কবচ হিসাবে কাজ করে। একটি শিশু তার শিক্ষার সকল শক্তি দিয়ে জীবন পরিচালনার মানবীয় গুনাবলীকে অর্জন করতে সক্ষম হয়। তাই আমরা অকপটেই বলে থাকি শিক্ষা মানব জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর প্রাথমিক শিক্ষাকে বলা সকল শিক্ষার বুনিয়াদ। শিক্ষা ক্ষেত্রে আমাদের যেমন সফলতা আছে তেমনি রয়েছে ব্যর্থতাও। বর্তমান সময়ে শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করা হলেও ঝরেপড়ার বিষয়টি আশঙ্কাজনক। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে প্রায় ১৮দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী…

বিয়ে করলেই তো ছেলেরা জনক হয়ে যায়। আর জনক হওয়া মানেই বিপদ। এজন্যই তো, বিপদজনক শব্দটি তৈরি হয়েছে।’

‘বিয়ে করা এমন ঝামেলার জানলে তো প্রেমই করতাম।’ ‘এখনো তো সুযোগ আছে।’ ‘ঝুলে পড়ার মতো তেমন হ্যাঙ্গার পাচ্ছি কই?’ ‘বিয়েকে ঝামেলার বলছেন কেন?’ ‘বিয়ে করলেই তো ছেলেরা জনক হয়ে যায়। আর জনক হওয়া মানেই বিপদ। এজন্যই তো, বিপদজনক শব্দটি তৈরি হয়েছে।’ ‘এটা তো জানা ছিল না যে বিপদজনক শব্দটা এভাবে এসেছে।’ ‘জানবেন কীভাবে, আমার সাথে তো আপনার আগে কখনো দেখা হয়নি।’ ‘বিয়ে ছেলেদের জন্য বিপদজনক, কথাটা ঠিক না। বিয়ে ছেলেদের জন্য যা, মেয়েদের জন্যও তা-ই।’ ‘জি না। মেয়েরা জননী হলেও কোনো বিপদ-আপদ নাই। এজন্য বিপদজননী বলে কোনো শব্দও নাই।’ অপ্সরা হালকা আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করল, ‘বিয়েতে ছেলেদের এত বড় বিপদ, তাহলে বিয়ের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন যে?’ ‘কারণ পৃথিবীর যেদিকেই তাকাই, দেখি শুধু বন্ধন আর বন্ধন। বন্ধন ছাড়া কিচ্ছু সম্ভব না। কম্পিউটারের কানেক্টরগুলো কখনোদেখেছেন? মেল আর ফিমেল অংশ থাকে। মেল-এর সঙ্গে ফিমেল না মিললে কিছুই প্রডাকশন সম্ভব না- না ছবি, না টেক্স, নাঅডিও, না ভিডিও। জীবনেও বন্ধন দরকার। তা না হলে ফ্রুটফুল কিছু হয় না। প্রোডাকশন ইমপসিবল।’ অপ্সরা খানিক কড়া সুরেই বলল, ‘আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে, সংসার একটা প্রোডাকশন হাউজ যেখানে খালি প্রোডাকশনহয়।’ ফারহাজ বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথেই বলল, ‘এক্সাক্টলি। সন্তান হলো সংসারের প্রোডাক্ট।’ ‘শুধু সন্তান নিয়ে কী সংসার হয়? অনুভূতি, আবেগ, ভালো লাগা, মন্দ লাগা-এগুলোর প্রয়োজন নেই? সংসারে কি ভালো লাগাতৈরি হওয়ার দরকার নেই? ভালোবাসা সৃষ্টি হওয়া লাগে না? যদি বলি, জীবনের এক ঘটনায় আমার সমস্ত অনুভূতি ভোঁতা হয়েগেছে, সেগুলো জাগিয়ে তুলতে হবে আমার জীবনসঙ্গীকে। আপনার ভাষায় বললে বলতে পারি, আমার জীবনসঙ্গীকেই আমারমধ্যে ভালো লাগার বোধ, ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা প্রোডাকশন করতে হবে!’ ‘কী দরকার? ভোঁতা অনুভূতিতেও আমার চলবে। আরে, ভোঁতা অনুভূতি তো ভালো! শোনেননি, যে লেবুর দুই মাথা ভোঁতা, সেটাতে রস বেশি হয়? আর যেটার মাথা চোখা, সেটাতে রস কম হয়।’ অপ্সরা গম্ভীর হয়ে বলল, ‘না, শুনিনি।’ ‘প্রোডাকশনের শুধু কোয়ালিটি না, কোয়ানটিটিও নির্ভর করে মেল-ফিমেল এর ওপর। যেমন ধরেন, গাভির দুধের প্রোডাকশননির্ভর করে ষাঁড় এর স্পার্ম-এর কোয়ালিটির ওপর। তাই সেই ষাঁড়ের দাম তত বেশি, যেই ষাঁড়ের ইয়ে যত বড়। ইয়ে মানে হলো…’  অপ্সরা বুঝতে পারছে, এই ছেলে তার লাইনের না। বদ, বেয়াদপিকে স্মার্টনেস ভাবছে। বিয়েকে যে এমন ভাবে, সে বউকে নিশ্চয়কোনো কলকব্জাই ভাববে। অপ্সরা যত দিন যাচ্ছে, তত অবাক হচ্ছে। দুনিয়াজুড়ে কত্ত রকম মানুষ। পৃথিবীর একেক মানুষএকেক রকম। কী আশ্চর্য, কারও সঙ্গে কারও মিল নেই।   [ ‘অপ্সরা’ সিরিজের বই থেকে। সংগ্রহের অনুরোধ রইল]

পৃথিবীর নিকৃষ্টতম প্রাণী?

প্রেরণা ডেস্ক: পৃথিবীর নিকৃষ্টতম প্রাণী অতঃপর অনেক খোঁজাখুঁজির পর আল্লাহর কাছে পৃথিবীতে বিচরণশীল সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণী সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া গেল। না কোন বাঘ কিংবা সিংহ নয়, কোন সাপ কিংবা বিচ্ছু নয়, কোন কুকুর কিংবা শিয়াল নয় বরং নিজেকে শ্রেষ্ঠ দাবি করা মানুষই একমাত্র বিচরণশীল প্রাণীদের মধ্য সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবার ক্ষমতা রাখে। মানুষ ছাড়া অন্য কোন প্রাণীর নিকৃষ্ট হবার ক্ষমতাই নেই। বাঘ সিংহ ইত্যাদি প্রাণীকে হিংস্র প্রাণী বলার কোন মানেই হয় না। কারণ, তারা তাদের জীবন বাচানোর জন্য আল্লাহর দেয়া বিধান অনুযায়ী অন্য প্রাণীকে খেয়ে থাকে। সেসব প্রাণী শখ করে বা…

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী।।।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী।।।     ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছিলো, একটা ছেলে যদি একজন মেয়ের সাথে কথা বলতে চায়, তবে তাকেপ্রক্টর বরাবর দরখাস্ত দিতে হবে। শুধুমাত্র প্রক্টর অনুমতি দিলেই সে কথা বলতে পারবে। এছাড়া নয়। এমনকি তার ক্লাসের কোনমেয়ের সাথেও না।          ডিসেম্বর ১৯২৭, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাত্র ৬ বছর পর। একদিন কোলকাতা থেকে একজন যুবক এলেন। ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখবেন। কয়েকজন বন্ধু বান্ধব নিয়ে সে ঘুরতে বের হলো। তখন কার্জন হল ছিলো বিজ্ঞান ভবন। ঘুরতেঘুরতে যখন কার্জন হলের সামনে এসে পড়লো তারা, সে যুবক দেখলো দূরে একটা থ্রী কোয়ার্টার হাতার ব্লাউজ আর সুতির শাড়িপরা এক মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে তার বন্ধুদের জিজ্ঞেস করলেন, এই মেয়েটি কে? তখন তার বন্ধুরা বলল, এ হলো ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম নারী ছাত্রী। তখন সেই যুবক বলে, সত্যি? আমি এই মেয়ের সাথে কথা বলব। তখন সে যুবকমেয়েটির সাথে কথা বলার জন্য একটু এগিয়ে গেলে তার বন্ধুরা তাকে বাঁধা দেয়। বলে, না তুমি যেওনা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েমেয়েদের সাথে কথা বলার অনুমতি নেই। তুমি যদি ওর সাথে অনুমতি ছাড়া কথা বলো তবে তোমার শাস্তি হবে। সেই যুবকবলল, “আমি মানি নাকো কোন বাঁধা, মানি নাকো কোন আইন।”সেই যুবক হেঁটে হেঁটে গিয়ে সেই মেয়েটির সামনে দাঁড়ালো।তারপর তাকে বলল, আমি শুনেছি আপনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম নারী ছাত্রী। কি নাম আপনার? মেয়েটি মাথা নিচুকরে বলল, ফজিলাতুন্নেছা। জিজ্ঞাসা করলো, কোন সাবজেক্টে পড়েন? বলল, গণিতে। গ্রামের বাড়ি কোথায়? #টাঙ্গাইলের_করটিয়া। ঢাকায় থাকছেন কোথায়? সিদ্দিকবাজার। এবার যুবক বললেন, আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমমুসলিম নারী ছাত্রী, আপনার সাথে কথা বলে আমি খুব আপ্লুত হয়েছি। আজই সন্ধ্যায় আমি আপনার সাথে দেখা করতেআসবো। মেয়েটি চলে গেলো। এই সব কিছু দূরে দাঁড়িয়ে এসিস্ট্যান্ট প্রক্টর স্যার দেখছিলেন। তার ঠিক তিনদিন পর। ২৯ ডিসেম্বর১৯২৭, কলা ভবন আর বিজ্ঞান ভবনের নোটিশ বোর্ডে হাতে লেখা বিজ্ঞপ্তি টানিয়ে দেয়া হলো যুবকের নামে। তার নাম লেখাহলো, তার বাবার নাম লেখা হলো এবং বিজ্ঞপ্তিতে বলা হলো, এই যুবকের আজীবনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ।     তারপরে এই যুবক আর কোনদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেননি। সেইদিনের সেই যুবক, বৃদ্ধ বয়সে ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্টমৃত্যুবরণ করলেন। যে যুবকটা আর কোনদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ করেননি, তার মৃত্যুর পরে তার কবর হলো ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ে। সেই যুবকের নাম, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। পুনশ্চ: মেয়েটি  ফজিলাতুন্নেসা জোহা, কবি নজরুল ওনাকে নিয়ে ‘বর্ষা বিদায়’ কবিতা লেখেন।    টাঙ্গাইলের সদর থানার নামদার কুমুল্লী গ্রামে জন্ম নেয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোক উদ্ভাসিত কারি, মহিয়সী নারী বেগমফজিলতুন্নেসা জোহা । বেগম ফজিলতুন্নেসা জোহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলমান ছাত্রী ও ঢাকা ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন (১৯৪৮-৫৭)।তিনিই প্রথম বাঙালি মুসলমান ছাত্রী যিনি উচ্চ শিক্ষার্থে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে যান। বেগম ফজিলতুন্নেসা সম্পর্কে পরিচয় পাওয়া যায় কাজী মোতাহার হোসেনের লেখা থেকে…. “ বেগম ফজিলতুন্নেসা অসামান্য সুন্দরীও ছিলেন না অথবা বীনানিন্দিত মঞ্জুভাষিণীও ছিলেন না। ছিলেন অঙ্কের এম এ এবংএকজন উচুঁদরের বাক্‌পটু মেয়ে ”জন্ম বেগম ফজিলতুন্নেসার জন্ম ১৮৯৯ সালে টাঙ্গাইল জেলার সদর থানার নামদার কুমুল্লী গ্রামে। পিতার নাম ওয়াজেদ আলী খাঁ, মাতা হালিমা খাতুন।।  ওয়াজেদ আলী খাঁ মাইনর স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষা মাত্র ৬ বছর বয়সে ওয়াজেদ আলী খাঁ  ফজিলতুন্নেসাকে করটিয়ার প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি করে দেন। তিনি ১৯২১ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক ও ১৯২৩ সালে প্রথমবিভাগে ইডেন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। ফজিলাতুন্নেছা ১৯২৫ সালে কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে  প্রথম বিভাগে বিএ পাস করেন।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৭ সালে গণিত শাস্ত্রে এমএ-তে ফার্স্ট ক্লাশ  ফার্স্ট (গোল্ড মেডালিস্ট) হয়েছিলেন।  অতঃপর তিনি ১৯২৮ সালে বিলেতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য গমন করেন। নিখিল বঙ্গে তিনিই প্রথম মুসলিম মহিলা গ্র্যাজুয়েট। উপমহাদেশে মুসলিম মহিলাদের মধ্যে তিনিই প্রথম বিলাত থেকে ডিগ্রিএনেছিলেন। তাঁর পড়াশোনার ব্যাপারে করটিয়ার জমিদার মরহুম ওয়াজেদ আলী খান পন্নী (চাঁদ মিয়া) বিশেষ উৎসাহ ও অর্থসাহায্য করেন।  বিলেতে তাঁর অবস্থান কালীন সময়ে  ভারতীয় মুসলমানদের মাঝে প্রথম ডিপিআই। পরিবার ————- বিদেশে পড়ার সময় ফজিলতুন্নেসার সাথে খুলনা নিবাসী আহসান উল্ল্যাহর পুত্র জোহা সাহেবের সাথে ফজিলাতুন্নেছার পরিচয়হয়। পরে উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কর্মজিবনে তার অসামান্য ‍অবদান লন্ডন থেকে ফিরে ১৯৩০ সালে তিনি কলকাতায় প্রথমে স্কুল ইন্সপেক্টরের চাকুরিতে যোগদান করেন। ১৯৩০ সালের আগস্টেকলকাতার অ্যালবার্ট হলে অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গীয় মুসলিম সমাজ-সেবক-সংঘে’র বার্ষিক অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে তাঁর বক্তব্যটিনারী  জাগরণের মাইল ফলক হয়ে আছে।  এই অধিবেশনে তিনি বলেন ‘নারী-শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন ও বলেন। নারী সমাজেরঅর্ধাঙ্গ, সমাজের পূর্ণতালাভ কোনোদিনই নারীকে বাদ দিয়ে সম্ভব হতে পারে না।  সেই জন্যেই আজ এ সমাজ এতোটা পঙ্গু হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন,  The highest form of society is one in which every man and woman is free to develop his or her individuality and to enrich the society what is more characteristic of himself or herself.      কাজেই এ সমাজের অবনতির প্রধান কারণ নারীকে ঘরে বন্দি করে রেখে তার Individuality বিকাশের পথ রুদ্ধ করে রাখা।নারী-শিক্ষা সম্বন্ধে এতোটা কথা আজ বলছি তার কারণ সমাজের গোড়ায় যে-গলদ রয়েছে সেটাকে দূরীভূত করতে  না-পারলে সমাজকে কখনই সুন্দর করে গড়ে তুলতে পারা যাবে না।’  তিনি ১৯৩৫ সালে বেথুন কলেজে গণিতের অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন।  বেথুন কলেজে চাকুরিরত অবস্থায় দেশবিভাগের পর তিনি ঢাকায় চলে এসে ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন১৯৪৮ সালে। বেগম ফজিলাতুন্নেছা ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত ঢাকা  ইডেন কলেজের অধ্যক্ষা ছিলেন। বেগম ফজিলাতুন্নেছার অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টায় বিজ্ঞান ও বাণিজ্যিক বিভাগসহ ইডেন কলেজডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত হয়।১৯৫২ সালে ইডেন কলেজের মেয়েরা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে কলেজের অভ্যন্তর থেকে মিছিল বের করারপ্রস্ত্ততি নিলে উর্দুভাষী এক দারোগা হোস্টেলে ঢুকে মেয়েদের ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করার এক পর্যায়ে  খবর পেয়ে বেগম ফজিলাতুন্নেছা কলেজে এসে তার বিনানুমতিতে কলেজ প্রাঙ্গণে ঢোকার জন্য দারোগাকে ভৎসনা করে হোস্টেলথেকে বের করে দেন নিজের দৃঢ়তা ও প্রশাসনিক ক্ষমতার বলে।  নারীশিক্ষা ও নারীমুক্তি সম্পর্কে সওগাতসহ অনেক পত্রিকায় তার বিভিন্ন প্রবন্ধ, গল্প প্রকাশিত হয়। মৃত্যু এই বিদুষী নারী ১৯৭৭ সালে ২১ অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। এই মহীয়সী নারীর স্মৃতি রক্ষার্থে জাহাঙ্গীরনগরবিশ্ববিদ্যালয় ১৯৮৭ সালে ফজিলাতুন্নেছার  নামে হল নির্মাণ করা হয়।

মৌলভীবাজার কমলগঞ্জে মণিপুরি মুসলমানদের সাহিত্য আসর!

সুস্থ ও মানসম্মত ইসলামী সাহিত্যচর্চার লক্ষে মৌলনা আব্দুুুস সুবহান ইসলামী গন-পাঠাগার উদ্যোগে গতকাল ২৬ অক্টোবর  শনিবার সন্ধ্যায় সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে।মৌলভীবাজার জেলা কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর বাজারে বাংলাদেশ মণিপুরি মুসলমানদের মধ্যে প্রথম এমবিবিএস ডাঃ মোঃ কায়াম উদ্দিন বাসভবনে ইসলামী সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হয়।  মৌলনা আব্দুুুস সুবাহান ইসলামী গন-পাঠাগার পরিচালক আলহাজ্ব ডাঃ কায়াম উদ্দিনের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ মণিপুরি মুসলিম পাঙ্গাল সমাজের “মক্তব ও কোরআন শিক্ষা উন্নয়ন সংগঠনের সহ সভাপতি মাওলানা যুবায়ের আহমদ (জুমের আলী’)র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আসর শুরু হয়। ইসলামে সাহিত্য ও  জ্ঞান চর্চার গুরুত্ব শীর্ষক আসরের আলোচনা পর্বে মূল আলোচনা করেন বাংলাদেশ মণিপুরি মুসলিম পাঙ্গাল…

মীতৈ চনু মুকুট জিতলেন বাংলাদেশের লৈফ্রাকপম সুচনা

রফিকুল ইসলাম জসিম :     মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মণিপুরি কন্যা “লৈফ্রাকপম সুচনা চনু” সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটি কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) শিক্ষার্থী “মীতৈ চনু-২০১৯” (মণিপুরি কন্যা) প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশী মনিপুরিদের মধ্যে প্রথম ও একমাত্র প্রতিযোগী হিসেবে ভারতের মণিপুর রাজ্যে লাইনিংথৌ সনামহি সনাপুং, মনিপুর এর আয়োজনে ৪র্থতম “মীতৈ চনু-২০১৯” অংশগ্রহণ করে প্রথম স্থান ও বিজয় মুকুট অর্জন করে। লৈফ্রাকপম সুচনা চনু কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের তেতইগাঁও গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা লৈফ্রাকপম ইবুংহল সিংহ শ্যামল ও ছনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কুঞ্জ রানী সিনহার সুযোগ্য কন্যা।…

কবিতা: আহবান

আনোয়ার পাশা এখনি বের হওয়ার সময় ভাই.. ঘর থেকে বের হওয়ার সময়। দেখ’না চারদিকে আজ, জ্বলছে উন্নয়ন তাজ। সবাই চলছে আর চলছেজিবন বাজি রেখে চলছে শত বাঁধা আসছে শত শত মরছে তবু সে চলছে….. গতি ধরে চলছে ভাই ঘরে থাকার সময় নাই এখনি বের হওয়ার সময় ভাই ঘর থেকে বের হওয়ার সময়। সময় কারও জন্য থেমে থাকে না তুলা থাকে নাহ সোনার যৌবন,সেও সময়ের সাথে সাথে বিলিন হয়।বিলিন হয় দেহমনগতি আশাভালোবাসাতারুন্য। তাই বলছি ভাই,ঘরে থাকার সময় নাইএখনি বের হওয়ার সময় ভাইএখনি বের হওয়ার সময়।

দেশের ভিসিরা দেশের উচ্চশিক্ষার যে ক্ষতি করছেন ক্যাসিনোর ক্ষতির চেয়ে তা মিলিয়ন গুণ বেশি

কামরুল হাসান মামুন : এই মুহূর্তে ঢাকা শহরের বিভিন্ন ক্লাবে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। ক্যাসিনো আর কি ক্ষতি করছে? দেশের ভিসিরা দেশের উচ্চ শিক্ষার যেই ক্ষতি করছে সেটা ক্যাসিনোর ক্ষতির চেয়ে মিলিয়ন গুণ বেশি। দেশের প্রায় সবক’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের বিরুদ্ধে নানা রকম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ শুনছি। হবে না কেন? ভিসিদের ক্ষমতা জানেন? বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত সেই একটি জায়গায়। এ যেন মৌমাছির রানী। ভিসির চারপাশজুড়ে সবসময় একদল চাটুকার ঘুরঘুর ভন্ভন্ করে। সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ায় সরকারেরও লাভ। তার উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এই একজনকে হাতে রাখতে পারলেই…

মণিপুরি সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান

রফিকুল ইসলাম জসিম: ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.) আরবের বিশুদ্ধতম ভাষার অধিকারী। তাই যুগে যুগে মুসলিম সমাজেও সাহিত্যচর্চার শুরু হয় ইসলামের সূচনাকালেই। মুসলিম কবি-সাহিত্যিকরা কলমের আঁচড়ে পুষ্টি জুগিয়েছেন পাঠকের মনে। হৃদয় করেছেন পরিতৃপ্ত। স্রষ্টাপ্রেম, মানবপ্রেম, ন্যায়নীতি, উত্তম আদর্শ ও শিষ্টাচার, সত্য ও ন্যায়ের প্রতি আহ্বানে পরিপূর্ণ ইসলামী সাহিত্য সমাজ গঠনে অনন্য অবদান রাখে। “মণিপুরি জাতির মুখের ভাষা হলো মণিপুরি ভাষা। ভাষা-সাহিত্যের অবদান বিশ্লেষণে যদিও নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের রচনাবলীকে আলাদা করে দেখিয়ে প্রভেদ সৃষ্টি করার সুযোগ নেই। তবে এতটুকু অবশ্যই বলা যেতে পারে যে, মণিপুরি ভাষা ও সাহিত্যে যারা অসামান্য অবদান রেখেছেন, তন্মধ্যে…