আজ নতুন করে লেখা প্রয়োজন, এ সমাজ ভাংবো আমরা কেমন করে………….????

একখন্ড জমি নিয়ে আমার প্রতিবাসী দুই সহোদরের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিলো, প্রায় রাতেই হতো তাদের ভয়ংকর মারামারি, রাতের খাবার ছেরে দৌড়ে গিয়ে থামাতে হতো সে বীভৎস মারামারি, তাদের সেই মারামারির নৃশংসতা দেখে একদিন উপরের দিকে তাকিয়ে, তার কাছে ক্ষমতা চাইলাম এই ভয়াবহ বিরোধ নিষ্পত্তির, পেয়েগেলাম উপায়, সমাধান সূত্র, আমার প্রদেয় সমাধানসূত্রে শর্ত সাপেক্ষে দুজনেই রাজি বিরোধ চিরনিষ্পত্তির, সমস্যা দাড়ালো তখন আদালতের মামলার, যা তারা একে অপরের বিরুদ্ধে করেছিলো, দুজনকেই রাজি করালাম তারা উভয়ে নিজ দায়িত্বে নিজ নিজ মামলা তুলে নিবে, এবার বাধসাধলো তাদের নিজ নিজ উকিল সাহেবেরা, কোনো পক্ষের উকিলই মামলা তুলে দিতে রাজি নয়, বাধ্য হয়ে নিজে গেলাম উকিল সাহেবদের বাসায়, উভয়ই রংপুর শহরের নামি-দামি উকিল, দেখলাম আসলেই তারা মামলা নিষ্পত্তি করে দিতে নারাজ, জানতে চাইলাম কেনো তারা মক্কেলের পক্ষে “সমোঝোতা নিষ্পত্তি পিটিশন” দিতে নারাজ, একজন বলেই বসলো মামলা নিষ্পত্তি করে দিলে আমাদের পেট চলবে কি করে ?

দুই উকিলের ভিতরেই যেনো আমি দেখেছিলাম বাংলার উকিল সমাজের চিত্র,
দুই সহোদরের দন্দের আগুনে ঘিঁ ঢালার ব্যক্তি যে এ দুজন তা আমার বুঝার বাকি ছিলো না, তাই নিজ পকেট থেকে তাদের ম্যানেজ করতে হয়েছিল আমায়,

আজও এত দিন পরে সামাজিক বিভিন্ন আচার অনুষ্টানে সেই সব উকিলের সাথে আমার দেখা হয়, সবাই দেখে উক্তলোক দুটির ঘারে মানুষের মাথা কিন্তু আমি স্পষ্টই দেখতে পাই মানুষদুটির ঘারে হায়না/শৃগালের মাথা, আজ তাদেরও প্রায় যাবার সময় এসেছে, আমিও মাঝ পথে, হয়ত পকেটের মুল্য ফেরৎ পাবো কাল আরাফাতে, কিন্তু তারা নিয়ে যাবে কি? যাক সে এক ভিন্ন কথা।

বাংলার কিছু কিছু উকিল সাহেবেরা যেমন মারামারি করে মরে গেলেও মক্কেলকে কোনোভাবেই ছারবে না, ঠিক যেনো তেমনি এই বাংলায় গড়ে উঠেছে… স্কুল কলেজের কিছু কিছু শিক্ষক ও শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা করা কিছু মানুষের সমাজ। ছাত্র পড়ানোই তাদের ব্যাবসা, তারা যেনো কোনোভাবেই চান না এই পড়ানো ব্যাবসা বৎসরের একদিনের জন্যও বন্ধ থাকুক, যত সাবজেক্ট বারবে, পড়াশুনা যত কঠিন হবে, তাদের যেন ততই লাভ, ততই ব্যাবসা।

আমার সন্তানের এক শিক্ষকের কাছে বিনয়ের সাথে জানতে চেয়েছিলাম, আচ্ছা ভাই দয়াকরে একটু বুকে হাত দিয়ে বলুনতো… আমার ক্লাস থ্রির বাচ্চাকে আজ আপনি যে এস এ বা প্যরাগ্রাফ মুখস্থ করাচ্ছেন, তা আপনি আপনার জীবনে কোন ক্লাসে পড়েছিলেন? তিনি বল্লেন ক্লাস নাইন/টেনে। জানতে চাইলাম.. তাহলে আজ কেনো তা ক্লাস থ্রি/ফোরে পড়াচ্ছেন? তাহলে কি তখন আপনাদের মেধা খারাপ ছিল যে আপনাদেরকে সহজ করে পড়ানো হতো? তখন বলে… এখন বাচ্চা অনেক, কম্পিটিশন অনেক বেড়েছে, বল্লাম… বুঝলাম মানুষ বেশি বাচ্চা জন্ম দিয়ে ফেলেছে, তাই বলে আমার বাচ্চার কি দোষ যে তাকে ক্লাস নাইন/টেনের পড়া ক্লাস থ্রি/ফোরে পড়তে হবে? তিনি উত্তর দিতে পারেন নাই কিছু, আসল ব্যপার তা নয়, আসল ব্যপার হলো বেশি পড়ানোতে বেশি ব্যবসা!!!!!!

আর তাই আজ আমাদের সন্তানদের অবস্থাও যেনো “ছেরে দে মা কেঁদে বাচি”, কিন্তু লাভ নেই তাতে, আজকের সন্তানরা কেঁদেও বাঁচতে পারবে না, হয় তাদের পড়তে পড়তে পাগল হতে হবে, নয়তো তাদের মরে বাচঁতে হবে, কোন ছার নেই শিক্ষক সহ শিক্ষা নিয়ে ব্যাবসা করা তথাকথিত শিক্ষিত মানুষগুলোর হাত থেকে !!!!

আমরা যেনো কেমন হয়ে গিয়েছি সর্ব ক্ষেত্রে, অনুরূপ হয়তো অনেক ডাক্তারও চান না রোগী ভালো হয়ে যাক, তাহলে ভিজিট দিবে কে?

চারি দিকে নজরে আসে এ ঘুনে ধরা সমাজের যেনো একই চিত্র।।

জিবন থেকে নেয়া সিনেমায় জহির রায়হান সাহেব গান লিখেছিলেন, খান আতা গেয়েছিলেন “এ খাঁচা ভাংবো আমি কেমন করে”।

আজ নতুন করে লেখা প্রয়োজন, এ সমাজ ভাংবো আমরা কেমন করে………….????

লেখক:

Rabiul islam(Mredul)

Director Rangpur Chember of Commerce & Industries,Rangpur,Bangladesh 

আরও পড়ুন

Leave a Comment