বাংলাদেশে আধুনিক নারী শিক্ষার অগ্রদুত বেগম রাজিয়া হোসাইন

প্রেরনা ডেস্কঃ

কিশোরগঞ্জের অগ্রসর নারীব্যক্তিত্বের কথা এলে প্রথমেই যে নামটি আসে তিনি হলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক বেগম রাজিয়া হোসাইন। বেগম রাজিয়া হোসাইন একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি ও কথাসাহিত্যিক হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। তিনি বাংলাদেশে আধুনিক নারী শিক্ষার অগ্রদুত বেগম রাজিয়া হোসাইন। তিনি আধুনিক নারীদের প্রেরনা র উৎস।

প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর সাবলীল পদচারণা, মমতার স্পর্শ আর হৃদয়ের গভীরতম প্রক্ষেপণ আমাদেরকে স্নিগ্ধতা ও মুগ্ধতায় বিমোহিত করে। তাঁর শিক্ষাজীবন, শিক্ষকতা জীবন, প্রশাসনিক কর্মকর্তার জীবন এবং সাহিত্য-সাধকের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র ফুলে-ফুলে সুশোভিত। তিনি এতদঞ্চলের ‘বেগম রোকেয়া’, আমাদের গৌরব এবং অহংকার।

কিশোরগঞ্জের এই কৃতী নারী জেলার প্রত্যন্ত হাওর অঞ্চল অষ্টগ্রাম উপজেলার ভাঙ্গারকান্দি (বর্তমানে দুর্গাপুর) গ্রামে একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দের ২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলভি মো. আব্দুল হাকিম ভূঁইয়া এবং মাতা বেগম নূরুননাহার।

নিতান্ত পাড়াগাঁও এবং একেবারে পশ্চাৎপদ অঞ্চলের অবহেলিত জায়গায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তাঁর পিতার আগ্রহেই কিশোরগঞ্জ শহরের এসভি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলেন। এ সময় তাঁর পিতা কন্যার লেখাপড়ার সুবিধার্থে কিশোরগঞ্জ শহরে বাড়ি কেনেন এবং সেখানেই বসবাস শুরু করেন।

এদিকে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময়ই মিঠামইন উপজেলা নিবাসী মোহাম্মদ হোসাইন আলীর সাথে বেগম রাজিয়া হোসাইনের বিবাহ সম্পন্ন হয়। তবে এতে তাঁর লেখাপড়ায় কোনো ছেদ পড়েনি।

তাঁর পিতা-মাতা এবং স্বামীর সর্বাত্মক আগ্রহেই শিক্ষাক্রম চলতে থাকে এবং ১৯৫৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান সেকেন্ডারি এডুকেশন বোর্ডে (ম্যাট্রিকুলেশন) তিনি প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে প্রথম শ্রেণির সাধারণ বৃত্তি লাভ করে বোর্ডে মেয়েদের মধ্যে অষ্টম স্থান অধিকার করার গৌরব অর্জন করেন।

একটি প্রায়-অশিক্ষিত, অসচেতন ও গোঁড়ামিতে নিমজ্জিত সমাজব্যবস্থার মধ্যে রাজিয়া হোসাইনের শিক্ষাজীবন অতিবাহিত হয়েছে। নারীশিক্ষার বৈরী পরিবেশে থেকেও সকল বাধা অতিক্রম করে তিনি এগিয়ে গেছেন।

শিক্ষার প্রতি তাঁর একাগ্রতা ও চারিত্রিক দৃঢ়তাই তাঁকে সাহস জুগিয়েছিল। এক্ষেত্রে তাঁর পিতা-মাতা, স্বামী এবং শিক্ষকমণ্ডলীর উৎসাহ তাঁর পক্ষে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

ম্যাট্রিক পাস করার পর কোনো মহিলা কলেজ না থাকায় উচ্চতর শিক্ষালাভ যখন প্রায় রুদ্ধ হওয়ার উপক্রম, তখন স্কুলের আরবি শিক্ষক মৌলভি মো. ইউসুফ ও প্রধান শিক্ষক বাবু রায়মোহন সাহার একান্ত আগ্রহ তাঁকে গুরুদয়াল কলেজে ভর্তি হতে উৎসাহিত করে।

ভর্তির নির্ধারিত সময়সীমা চলে যাওয়ায় তৎকালীন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রভোস্ট ড. এম. ও. গণির চেষ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি ড. জেনকিনসনের বিশেষ অনুমতি নিয়ে তাঁকে কলেজে ভর্তি হতে হয়েছিল। নানা প্রতিকূলতা পার হয়ে একে একে ইন্টারমিডিয়েট, ডিগ্রি এবং মাস্টার্স ডিগ্রি লাভের সাথে সাথে শুরু হয় তাঁর শিক্ষকতা জীবনের আর এক মহান অধ্যায়।

রাজিয়া হোসাইনের লেখালেখি শুরু কলেজ জীবন থেকেই। কলেজ থেকে প্রকাশিত ‘নবারুণ’ সাময়িকীতে তাঁর ‘ছিন্ন আশা’ নামে গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয়। তাছাড়া এ সময় ‘সুরভি’, ‘প্রত্যাশা’, ‘প্রভাতী’ নামে প্রকাশিত সব সাময়িকীতেও তাঁর লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে।

এর আগেও তিনি যখন স্কুলে পড়তেন সহপাঠীদের নিয়ে তিনি হাতে লেখা দেয়ালপত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন, নাম ছিল ‘পূর্বাচল’। এতে তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখাটি ছিল ‘বাংলা বর্ণমালা ও আমার দেশ’ নামে একটি কবিতা।

তাঁর প্রতিভার বিষয়টি স্কুলের শিক্ষকেরা বুঝতে পেরেছিলেন প্রথম থেকেই। স্কুলের শিক্ষক বাবু বিজন কুমার ও বাবু যোগেন্দ্র চন্দ্র মজুমদার রাজিয়া হোসাইনের লেখা ‘ঋতু বৈচিত্র্যের দেশ আমার দেশ’ বাংলা রচনাটি পড়ে এর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে ভবিষ্যতে সে আরো ভালো লিখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। স্কুল শিক্ষকদের সেই আশা বৃথা যায়নি।

বেগম রাজিয়া হোসাইন বহু কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ লিখেছেন। তিনি উপন্যাস এবং কথাসাহিত্যের নানা অঙ্গনে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর অনুবাদ সাহিত্য, মহৎ মানুষের জীবনী রচনা এবং শিশুদের জন্য রচনাবলি সাহিত্য ক্ষেত্রে একটি অনন্য সৃষ্টি।

তাঁর লেখার ভাষা ও শব্দচয়ন, আঙ্গিক ও কলানৈপুণ্য এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে পরিপূর্ণ। তিনি প্রবন্ধ সাহিত্যে যেমন ভাবগাম্ভীর্য ও জ্ঞান-অন্বেষার সন্ধান করেছেন, তেমনি শিশুদের রচনায় বড় হওয়ার স্বপ্ন, আত্মসম্মানবোধ, প্রকৃতি, দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত করেছেন।

একদিনে তাঁর এ কাব্যিক ও সাহিত্যজগৎ গড়ে ওঠেনি। তাঁর সৃষ্টিশীল জগৎটির স্ফুরণ ঘটেছিল তাঁর শৈশব ও কৈশোর জীবন থেকেই।

হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি, দিগন্তবিস্তারী ফসলের মাঠ, সবুজের সমারোহ এবং প্রকৃতির ঐশ্বর্য আর অপরূপ নিসর্গ তাঁকে উদ্ভাসিত করেছিল বালিকাবেলায়। হাওরের থৈ থৈ জল, অসীম আকাশ, দিগন্তবিস্তারী জলের কিনারে সংগ্রামী মানুষের বসবাসের বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি আর মাটির কাছাকাছি অবস্থিত মানুষের জন্য এক মমত্বময় হৃদয়ের উন্মেষ তাঁর সেখান থেকেই ঘটেছিল।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ৩২টি। তাঁর কবিতা ছন্দোময়, সংবেদনশীল এবং কাব্যিক দ্যোতনায় চমৎকার। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আবু তাহের মজুমদার যথার্থই বলেছেন, ‘বিভিন্ন স্বাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কবিতাগুলো রূপে-রসে সমৃদ্ধ ছন্দময় সংবেদনশীল এবং ব্যক্তিক অনুভবে উজ্জ্বল। শব্দময় সহজ সুন্দর ও হৃদয়স্পর্শী। অন্তর্গত বোধ ও বোধিতে উজ্জ্বল জীবনের কথাগুলো হৃদয় ছুঁয়ে যায়।’

‘মেঘ ছুঁয়ে যায় বারেবারে’ গ্রন্থের ‘ছুঁয়ে যাই’ কবিতায় তিনি লিখেছেন-
“মাঝে মাঝে কোনো একদিন/ সূর্যটাকে পেয়ে যাই এত কাছাকাছি/ আলোকিত হয়ে যাই আলোকে আলোকে/ কখনো কোথাও যদি জমে থাকে অন্ধকার/ কুয়াশায় ঘেরা থাকে শিউলি সকাল/ অপেক্ষায় থাকি সুন্দর কোনো দিনের/ চাঁদ ভেজা কোনো স্বপ্নময় রাতের/ এক সমুদ্র কল্লোল যেন তাড়া করে ফিরে/ আমাকে, প্রত্যাশার দিগন্তে।

আলোময় দিনের সেই সব আলো উৎসবে/ আমি ছুঁয়ে যাই নীলাকাশ ছুঁয়ে যাই মাটি/ ছুঁয়ে যাই ভালোবাসার একটি হৃদয়/ হাজারো হৃদয়।”

বিশিষ্ট লোকবিজ্ঞানী ও গবেষক ড. আশরাফ সিদ্দিকী বেগম রাজিয়া হোসাইন সম্পর্কে বলেছেন, ‘বেগম রাজিয়া হোসাইন এখন একটি সুপরিচিত নাম। আমি তার প্রকাশিত বেশ কিছু গ্রন্থ মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। তার কবিতাগুলো ভারি চমৎকার। …একটি কবিতার বই ‘রোদ্দুর হেঁটে যায় অন্ধকারে’ এবং গল্পগ্রন্থ ‘আমি তোমাকেই ভালোবাসি’-দুটি বই-ই তার সমৃদ্ধ চিন্তা ও জীবনবাস্তবতার ফসল। বুঝতে পারলাম তিনি চন্দ্রাবতীর সার্থক উত্তরসূরি। তার কবিতার পঙ্ক্তিগুলো হৃদয় ছুঁয়ে যায়। গল্পের কথাগুলো ময়মনসিংহের পলল মাটির মতোই সমৃদ্ধ। ছন্দময় সুন্দর।’

অধ্যাপক নরেন্দ্র চন্দ্র ঘোষ-এর মন্তব্য, ‘আমার স্নেহাস্পদ ছাত্রী বেগম রাজিয়া হোসাইনের ভাষায় প্রথম জানলাম ‘বুকের ভিতরে নদী’ আছে আর সেই নদীর     কল্লোলই ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে জীবনের শিল্পময় মালভূমি রচনা করে। সেখানে অসংখ্য পাখি ওড়ে। মানুষেরা হেঁটে চলে। নদী বয়ে যায় সমুদ্রের দিকে। ওই সমুদ্র খুব দূরে নয়। আমি মুগ্ধ হয়ে তার সকল কবিতা গল্প প্রবন্ধ পড়েছি। জোরালো জীবন-জিজ্ঞাসায় ছন্দময় তার ভাষা, উদ্দীপ্ত তার সাহিত্যকর্ম।’

কবি তাঁর কবিতায় আলো ছড়িয়েছেন। তাঁর চারপাশের মানুষের হাসি-কান্না, দুঃখ-ব্যথা, সমাজ ও রাষ্ট্রের দুর্যোগ-সংঘাতের চিত্রায়ন ছাড়াও সর্বোপরি তাঁর সাহিত্যে সম্ভাবনা ও ভালোবাসার গান করেছেন। তিনি মানুষের শক্তি, আত্মবিশ্বাস, সত্য ও সুন্দরের আরাধনায় সাহিত্যকর্মকে মহিমান্বিত করার প্রয়াস পেয়েছেন।

বাংলাদেশের সুপ্রতিষ্ঠিত প্রায় সব জাতীয় দৈনিকে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। দৈনিক ইত্তেফাক, যুগান্তর, নয়াদিগন্ত ও জনকণ্ঠ ছাড়াও বিভিন্ন সাময়িকী যেমন- শিশু, ফুলকুঁড়ি, অগ্রপথিক, সবুজ পাতা, দৃশ্যপট, বাংলাঘর, অনন্যা, মাসিক শিশু, মাসিক অগ্রপথিক, মাসিক সবুজ পাতায় তাঁর অসংখ্য লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এখনো এসব পত্রিকা ও সাময়িকীতে তিনি লিখে চলেছেন।

রাজিয়া হোসাইন যে সময়টাতে শিক্ষার্জন ও সাহিত্যকর্মে ব্যাপৃত ছিলেন সে সময়টা ছিল ষাটের দশক। এ সময় নারীশিক্ষার সীমাবদ্ধতা যেমন ছিল, তেমনি নানা কুসংস্কারে পরিপূর্ণ ছিল সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা। অনগ্রসর ও অসচেতন সামাজিক পরিবেশে নানা অন্তরায় ও বন্ধনকে অতিক্রম করে তাঁকে সামনে এগিয়ে যেতে হয়েছে।

বিবাহিত জীবন, ঘর-সংসারসহ বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থায় প্রতিনিয়ত তাঁকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। এক্ষেত্রে তাঁর একাগ্রতা, দৃঢ়তা তাঁকে লক্ষ্যে পৌঁছতে সাহায্য করেছে। একজন নারীর এই যে দৃঢ়তা ও সচেতনতা এবং সকল বৈরী ও প্রতিকূলতার বিপক্ষে দাঁড়ানোর এই যে সাহস এখানেই বেগম রাজিয়া হোসাইনের বিশেষত্ব ও স্বাতন্ত্র্য। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন পুরুষের পাশাপাশি নারীর উন্নয়নে শিক্ষার বিকল্প নেই। আর নারীর উন্নয়ন ছাড়া সমাজ ও রাষ্ট্র খোঁড়া।

এই বিদূষী নারীর শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক কর্মজীবনের অন্য অধ্যায়ে আমরা তাঁর  দক্ষতা ও যোগ্যতার বহু প্রমাণ পাই। ১৯৫৯ সালে বিএ পাস করার পর তাঁকে তাঁরই স্কুলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করার পর থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি দীর্ঘ সময় এসভি গার্লস হাই স্কুলের একনিষ্ঠ সেবা ও সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে স্কুলটিকে জাতীয় পর্যায়ের একটি শ্রেষ্ঠ স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন।

শিক্ষকতা জীবনে  বিভিন্ন বিষয়ে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৬৭ সালে ‘ডেম লেসলি হুইটলি শিল্ড’ ও ১৯৬৮ সালে অল পাকিস্তান জাতীয় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ‘বেগম জি এ খান শিল্ড’ লাভ করেন। এছাড়া তিনি দক্ষতা ও শিক্ষা সেবার জন্য ‘স্টার অব পাকিস্তান’ পদক এবং শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকার পুরস্কার লাভ করেন।

পরে তিনি ১৯৮১ সালে পদোন্নতি পেয়ে বৃহত্তর রাজশাহী বিভাগীয় স্কুল পরিদর্শকের দায়িত্ব গ্রহণ এবং আরো পরে ১৯৯০ সালে বরিশাল অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা উপ-পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পান।

বরিশাল অঞ্চলে ব্যতিক্রমী কর্মপ্রতিভার জন্য তাঁকে শিক্ষাক্ষেত্রে ১৯৯০ সালে ড. শহীদুল্লাহ স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। পরে তিনি ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি বরিশাল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে স্কাউট সেবার জন্য জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার ‘মেডেল অব মেরিট’ অর্জন করেন।

ছড়াসাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখায় ২০০৭ সালে কিশোরগঞ্জ ছড়া উৎসবে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সুকুমার রায় সাহিত্য পদক ও বিশেষ সম্মাননা’য় ভূষিত করা হয়। নারীর  অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১১ সালে জাতীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে ‘বেগম রোকেয়া পদক’-এ ভূষিত করে।

মাটি ও মানুষের প্রতি তাঁর রয়েছে নিখাদ ভালোবাসা। স্কুলে পড়ার সময় তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। স্কুলে অধ্যয়নকালে বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে অনুষ্ঠিত আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। ছাত্রীদের সংগঠিত করেছেন, সভা-সমাবেশ করেছেন এবং মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে মায়ের ভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ব্রতী হয়েছেন।

আবার মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তিকে বিজয়ী করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন।

কিশোরগঞ্জের কৃতী নারী লেখক বেগম রাজিয়া হোসাইন সাহিত্যভুবনের একজন শৈল্পিক মানুষ ও নন্দিত নারী হিসেবে আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই লেখকের কবিতা আমাদের মন ও মননকে দেশ ও মানুষকে ভালোবাসার প্রেরণা যোগায়। তাঁর গল্প-প্রবন্ধ আমাদের বড় হওয়ার সাহস এবং আত্মসম্মানবোধ, কর্মস্পৃহা, সত্য ও সুন্দরের পথ দেখায়। তিনি দীর্ঘজীবী হোন।

তথ্য ….. আ লতিফ

আরও পড়ুন

Leave a Comment