হবিগঞ্জে লকডাউনেও চলছে বাবুলের রমরমা মাদক ব্যবসা

স্টাফ রিপোর্টার: হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া পুলিশের সাবেক আইজি আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সম্বনায়ক হান্নান সাহেব এর নাম ভাঙিয়ে মাদকের সর্গরাজ্য তৈরী করেছে। হাওর অঞ্চলে মাদক ব্যবসা নিরাপদ হওয়ায় মাদকের আঞ্চলিক রুট তৈরী করেছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে।


ঈদ ও করোনা আক্রান্তের সময় মানুষ এ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মাদকদ্রব্য সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। করোনা সংকটে যখন গোটা দেশ লকডাউনে, তখন বানিয়াচং জুড়ে দিনরাত চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা। ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ সব ধরণের মাদক অত্র ইউনিয়নের প্রতিটি পাড়া মহল্লায় হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী করোনা সংকট মোকাবেলায় এক গুচ্ছ মানবিক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় মাদক কারবারিরা সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।


এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া পুলিশের সাবেক আইজি হান্নান সাহেবের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি হাবিবুর রহমান (খলিল) জানান, বানিয়াচং ইউনিয়নে মাদকের সর্গরাজ্য তৈরী করেছে বাবুল নামের এ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে যুদ্ধাপরারধীদের মামলার পরিচালকের দায়িত্বে বাবুল মিয়া এ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময় মানুষকে হয়রানি করে আসছে। বিভিন্ন সময় থানায় মামলার জিডি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকাবাসীর নিকট থেকে টাকা আদায় করে।


যুদ্ধাপরাধের মামলার স্বাক্ষী আলাই মিয়া জানান, বিভিন্ন সময় এলাকার লোকজনের সাথে বিদেশে নেয়ার কথা বলে নারী-পুরুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়। পরে র‌্যাব তাকে শাহপরান থানায় বহু পাসপোর্টসহ গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে।
এদিকে কিছুদিন আগে তার ভাই ওসমান এবং তার চাচা দুলাল মিয়া ইয়াবা ট্যাবলেট সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়।


যুদ্ধাপরাধের মামলার স্বাক্ষী জাহাঙ্গীর মিয়া জানান, যুদ্ধাপরাধের মামলার পরিচালকের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন সময় এলাকায় মাদক ব্যবসা, নারী পাচার, ভুয়া জিডি করে মানুষকে হয়রানি করে আসছে বাবুল। এতে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের বিতর্কিত করছে এ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া। এছাড়া যুদ্ধাপরাধের মামলার স্বাক্ষী আলাই মিয়া, শরিফা বেগম জানান, এ চিনহিত মাদক ব্যবসায়ীকে দিয়ে মামলা পরিচালনা করলে বিতর্কের সৃষ্টি হবে। তাকে অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধী ট্রাইবুনাল থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান।


এদিকে বিতঙ্গল জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুফতি মো: রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আলেম সমাজ, এলাকার মুরুব্বিরা কিছুদিন আগে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লা এর সঙ্গে দেখা করি। তিনি জানান, পুলিশ সুপার বলেন যুদ্ধাপরাধীর ট্রাইবুনালের কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি অবহিত করার জন্য এলাকাবাসীকে জানান।

আরও পড়ুন

Leave a Comment