মানব পাচারের ফলে আড়াই কোটি মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ……. মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিলার

প্রেরণা ডেস্কঃ


মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিলারের বলেছেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক নেটওয়ার্ক বাংলাদেশে মানব পাচার: বিশ্ব মানব পাচার বিরোধী দিবসে ওয়েবিনার সংলাপ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

মানব পাচারের ফলে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ তাদের স্বাধীন থাকার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, দাসত্বের জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছে এবং শোষকের লাভের জন্য খেটে মরছে। এটি একটি বৈশ্বিক হুমকি যার জন্য বৈশ্বিক কার্যক্রম আবশ্যক।


তিনি বলেন,
আমি খুবই আনন্দিত যে, আজ এখানে মানব পাচার বিরোধী লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের ব্যাপক একটি অংশের প্রতিনিধিদের দেখতে পাচ্ছি। এই অপরাধ প্রতিরোধে সরকার, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার কর্মী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের মধ্যে জোর সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন,
আমাদের লড়াইয়ের অস্ত্র হিসাবে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, মানব পাচারের ঘটনাগুলোকে আদালতে আনা, সামাজিক পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি, উদ্ধার পাওয়াদের সুরক্ষা দেয়া এবং মানব পাচারের নেটওয়ার্ক অনুসন্ধানে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা আবশ্যক।
তিনি বলেন,
ব্যক্তিগতভাবে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা হিসাবে মানব পাচারকারীদের তদন্তকাজ পরিচালনা এবং তাদের হাতে হাতকড়া পরানোর ২৪ বছরের অভিজ্ঞতায় আমি জানি, এই সমস্যাটি কত জটিল ও কঠিন হতে পারে। সম্প্রতি পাচারের ভুক্তভোগী বাংলাদেশীদের মর্মান্তিক ঘটনাবলীর মাধ্যমে আমরা সবাই দেখেছি, মানব পাচারের নেটওয়ার্ক কতটা নিখুঁত, সুদূরপ্রসারী ও বিপজ্জনক হতে পারে। আমার আহ্বান থাকবে, আপনারা এই জোর লড়াই অব্যাহত রাখবেন। এই কঠিন কাজটি অসাধারণভাবে এগিয়ে নেয়ার জন্য আপনাদের প্রতি আমার সকল সম্মান, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। যে সাহসিকতা নিয়ে আপনারা বাংলাদেশের নাগরিকদেরকে সুরক্ষা ও সেবা দিচ্ছেন সেজন্য তারা আপনাদের কাছে ঋণী থাকবে। আমরাও সবাই ঋণী আপনাদের কাছে।
তিনি আরো বলেন,
আমাদের লড়াইয়ের অস্ত্র হিসাবে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, মানব পাচারের ঘটনাগুলোকে আদালতে আনা, সামাজিক পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি, উদ্ধার পাওয়াদের সুরক্ষা দেয়া এবং মানব পাচারের নেটওয়ার্ক অনুসন্ধানে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা আবশ্যক।
তিনি বলেন
আমার সৌভাগ্য হয়েছে আপনাদের অনেকেরই কার্যক্রম দেখার। আমি প্রত্যক্ষ করেছি আমাদের ঐক্যবদ্ধ কাজের অপ্রতিরোধ্য শক্তি। কারণ মানব পাচার বিরোধী লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হলে আমরা অর্জন করতে পারবো না এমন প্রায় কিছুই নেই। আমরা এটা প্রমাণ করবো।
তিনি বলেন,
গতকালই আমি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নকৃত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কৌঁসুলি ও বিচারকদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি। নবগঠিত সাতটি মানব-পাচার বিরোধী ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে পাচারকারীদের তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া বিষয়ক প্রশিক্ষণটি এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ইউএসএআইডি/বাংলাদেশ আমাদের সহযোগী সংস্থা উইনরক ইন্টারন্যাশনাল’র সাথে একটি সাড়ে ছয় বছর মেয়াদী কার্যক্রমে অর্থায়ন করেছে যার আওতায় আধুনিক কালের এই দাসত্বের ফলে একদা বিপদগ্রস্ত বা বিপর্যস্ত হওয়া মানুষের জীবন উন্নয়নে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় স্থাপিত ছয়টি আশ্রয়কেন্দ্র এবং রোহিঙ্গা আশ্রয়ণ এলাকায় তিনটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে ইউএসএআইডি/বাংলাদেশ নিরাপদ আশ্রয়ণ, পরামর্শ প্রদান, আইনি সহায়তা এবং স্বাস্থ্য ও জীবিকা বিষয়ক সহায়তা প্রদান করছে। বিগত ছয় বছরে, ইউএসএআইডি পাচার থেকে উদ্ধার পাওয়া ২,৮০০’র অধিক মানুষকে সহায়তা দিয়েছে এবং পাচার বিষয়ক মামলাগুলোর আরো কার্যকর পরিচালনার জন্য ১,৪০০’র অধিক ফৌজদারি বিচারককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
আমরা আরো অনেকভাবেই একসাথে কাজ করে যাচ্ছি। আমি আশা করি আমাদের আজকের এই সহযোগিতাপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে আমরা মানব-পাচার প্রতিরোধে নতুন নতুন প্রস্তাবনা ও ধারণা পাবো।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানব পাচার বিরোধী প্রতিবেদন ২০২০-এ দেখা গেছে, বাংলাদেশের অবস্থান পর্যায় ২’র পর্যবেক্ষণ তালিকা থেকে পর্যায় ২-এ উন্নীত হয়েছে । তিনি সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

আরও পড়ুন

Leave a Comment