কিশোরগঞ্জের কৃষকের স্বপ্ন পূরন এম নূর মোহাম্মদ

প্রেরণা ডেস্কঃ

কচুরিপানার স্তূপ জমে কৃষিকাজে ব্যাঘাত, উৎপাদিত পণ্য যথাসময়ে আনতে না পারা ও খুব কাছে বিল থাকলেও যাতায়াতের অভাবে মাছ আহরণে অনীহা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিপাকে ছিলেন একটি গ্রামের হাজারো কৃষক। অবশেষে স্থানীয় এমপি’ সাবেক আই জি পি নূর মোহাম্মদের হস্তক্ষেপে সীমাহীন দুর্ভোগ থেকে রেহাই মিলছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের কন্দরপদী গ্রামবাসীর। দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন একটি সড়ক নির্মাণ হওয়ায় ওই গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হচ্ছে। এর ফলে কৃষিক্ষেত্রেও নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচন হবে বলে আশা স্থানীয় কৃষকদের।
জানা গেছে, কন্দরপদী গ্রামের বেশিরভাগ মানুষেরই প্রধান পেশা কৃষি। কন্দরপদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে নবাইগ্গা বিল পর্যন্ত টেঙামারা কান্দা, আইজাউনা কুড়, দুবাইগা কুড়ে গ্রামের ১০০০ থেকে ১২০০ কৃষকের কৃষিজমি রয়েছে। এসব জমিতে বছরে শুধু বোরো ধানের চাষ হয়ে থাকে। একটাই ফসল আবাদ হয়। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা রুবেল কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের এমপি নূর মোহাম্মদ-এর নজরে আনেন। প্রেক্ষিত গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় এমপি ওই সড়কটি নির্মাণের ব্যবস্থা করে দেন।

বর্ষা মৌসুমে বিলের কচুরীপানার স্তুপ হয়ে পুরো জমি ভরে যায়। এতে চাষাবাদে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটতো। তাছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় নিচু জমির ধান আনতে না পেরে ক্ষতির সম্মুখীন হতো কৃষকরা। এজন্য কন্দরপদী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে নবাইগ্গা বিল পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ দীর্ঘদিনের দাবি ছিল গ্রামবাসীর। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা রুবেল কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের এমপি নূর মোহাম্মদ-এর নজরে আনেন। প্রেক্ষিত গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় এমপি ওই সড়কটি নির্মাণের ব্যবস্থা করে দেন।
সরজমিনে দেখা গেছে, ১২৫নং কন্দরপদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে নবাইগ্গা বিল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মিত হয়েছে। সড়কটি প্রায় ৪ থেকে ৫ ফুট উঁচু। ১০ থেকে ১২ফুট প্রশস্ত। এ সড়ক দিয়ে যেকোনো পরিবহন চলাচল করতে পারবে। সড়কটি কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সড়কটি ব্যবহার করে বিল থেকে সুস্বাদু মাছ আহরণ করে আমিষের ঘাটতিও মিটবে গ্রামবাসীর।
হাফেজ মোজাম্মেল হক মোল্লা, আনাছ, আল আমিন, আবদুল হাই ও আবদুল হান্নানসহ গ্রামের বেশ কয়েকজন জানান, এ সড়ক নির্মাণের ফলে গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলো। কৃষি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ সড়ক। দেড় কিলোমিটার সড়ক ঘেঁষে তিনটি গ্রামীণ কালভার্ট রয়েছে। কালভার্টগুলো মেরামত করে দিলে কৃষকেরা বেশ উপকৃত হবেন বলেও তারা জানিয়েছেন।


বুরুদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা রুবেল বলেন, কন্দরপদী হতে বিল পর্যন্ত, কাগারচরের একটি রাস্তা ও বেলদীর রাস্তা নির্মাণ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। অবশেষে এমপি’র একান্ত চেষ্টায় ৩টি রাস্তা নির্মাণ হলো। যে এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের দাবি উঠেছে সেটিও এমপিকে অবহিত করা হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রওশন করিম জানান, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় ২০২০-২১অর্থ বছরে নতুন এ সড়কটি নির্মিত হয়েছে। এতে করে ওই এলাকার কৃষকরা বেশ উপকৃত হবেন। বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে গ্রামীণ এ সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হাসান দৈনিক প্রেরণা কে বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় বেশকিছু উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। এতে প্রান্তিক পর্যায়ে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছবে।

সাংবাদিক

সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়

আরও পড়ুন

Leave a Comment